Category: নিশ সাইট

  • ড্রোপড ডোমেইনে আমাজন এফিলিয়েট সাইট হতে পারে ফরচুন মেকার ( জেনে নিন কিভাবে)

    ড্রোপড ডোমেইনে আমাজন এফিলিয়েট সাইট হতে পারে ফরচুন মেকার ( জেনে নিন কিভাবে)

    আমাজন নিশ সাইট নিয়ে কাজ করছেন?

    কিংবা কাজ করার কথা ভাবছেন? জানতে চান র‍্যাঙ্কংয়ের জন্য এখনো গুগল কোন বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দেয়?

    তাহলে আমি এমন দুইটি সাইটের বিষয় নিয়ে বলবো যারা রীতিমত মেগা সাকসেস পেয়েছে। যাদের সাফল্যের কারন জানতে পারলে আপনিও উপকৃত হতে পারবেন। আপনি আপনার বর্তমান সাইট ও ভবিষ্যত সাইটের জন্য স্ট্রাটেজি তৈরি করতে পারবেন।

    মজার বিষয় হলো এদের এই সাকসেস পাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোন কস্ট করতে হয় নি। ছোট একটা স্ট্রাটেজি এতে এতো বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।

    স্ট্রাটেজিটা হলো ড্রোপড ডোমেইনে নিশ সাইট তৈরি।

    আপনি হয়তো শুনেছেন যে ড্রোপড ডোমেইনে নিশ সাইট তৈরি করে। আমিও জানি। তবে আমি যে দুইটি সাইটের কথা বলছি তাদের যে সাফল্য এমন আমি অন্য সাইটের ক্ষেত্রে দেখিনি। কেমন সাফল্য? চলুন দেখে নেই।

    সাইট দুইটি হলোঃ

    • foodsharkmarfa.com
    • thearchitectsguide.com

    ফুড সার্ক মারফার মান্থলি ভিজিটির দুই লাখের বেশি আর আরকিটেক্ট গাইডের মান্থলি ভিজিটর সাড়ে তিন লাখের বেশি।

    এই দুই সাইটের উদ্যোক্তা আমি নিশ্চিত খুবই স্মার্ট ও দক্ষ। ভালো একটা ডোমেইন নির্বাচন করেই তারা তৈরি করে ফেললো তাদের ভাগ্য। সাধারন ভাবে বলা যায় যে সাইট সাড়ে তিন লাখ ভিজিটর পায় আর অধিকাংশই বায়িং কিওয়ার্ড দিয়ে সেই সাইট মাসে ৩০-৪০ হাজার ডলার আয় করে।

    এই সাফল্য পেতে তাদের অন্যদের মতো কস্ট করতে হয় নি। সাফাল্যও এসেছে খুব অল্প সময়ে। কি ছিলো সাফল্যের সেই রহস্য?

    এই দুইটি সাইটই করা হয়েছে ড্রোপড ডোমেইনের উপর। কেমন ছিলো এই ড্রোপড ডোমেইন গুলো? কেন এই সাইট গুলো এতো ভালো করছে। এই সব প্রশ্নের উত্তর খুজঁতে আমি যে এনালাইসিস করেছি তা এখানে রেকর্ড করছি।



    ভিডিওতে আমি আমার পর্যালোচনা করেছি। সংক্ষিপ্ত আকারে সাফল্যের কারন গুলো হলোঃ

    • স্ট্রং লিঙ্ক প্রোফাইল – যে লিঙ্ক প্রোফাইল কম্পিটিটর সাইট গুলোর নেই আর সহসা তৈরিরও সুযোগ নেই
    • কিওয়ার্ড সিলেকশন – সাইটের লিঙ্ক প্রোফাইলের সাথে সমন্বয় রেখে সেই কিওয়ার্ড গুলো তারা নির্বাচন করে যাদের সার্চ ভলিয়ম ভালো আর সহজেই তারা প্রথম পেইজে র‍্যাঙ্ক করবে। মজার বিষয় হলো অধিকাংশ কিওয়ার্ডের জন্যই তারা প্রথম পজিশনে র‍্যাঙ্ক করে।
    • লং ফরম কনটেণ্ট – অধিকাংশ কনটেণ্ট লং ফরম আর ডিটেইল। যেটা সমসাময়িক এসইওয়ের জন্য বেস্ট প্র্যাকটিস। প্রচুর কিওয়ার্ডের জন্য তাদের পেইজ গুলো র‍্যাঙ্ক করে
    • ফিয়েচারড স্পিনিপিটের জন্য অপটিমাইজ করা
    • অনপেইজ এসইও – কিওয়ার্ডের ব্যবহার, ইন্টারন্যাল লিঙ্ক, এক্সটারনাল লিঙ্ক, এলএসআই কিওয়ার্ড

    এছাড়াও আরো কিছু বিষয় আছে। আমি মেজর গুলো বললাম।

    আমরা এই এনালাইসিস কিভাবে কাজে লাগাতে পারিঃ

    • নেক্সট সাইট তৈরির ক্ষেত্রে দেখবো এমন লিঙ্ক প্রোফাইল সম্পন্ন কোন ডোমেইন পাওয়া যায় কিনা পেলে সেই ডোমেইনের উপর নিশ সাইট তৈরি করবো
    • বর্তমানে যে সাইট আছে তার লিঙ্ক প্রোফাইলকে নিশ অনুযায়ী তৈরি করবো। র‍্যান্ডম সাইট থেকে লিঙ্ক তৈরি করবো না।

    আশাকরি এনালাইসিসটি আপনার উপকারে আসবে। কেমন লাগলো সহ আপনার মন্তব্য কমেন্টে লিখুন। আর অনুরোধ রইলো লেখাটি অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

    জয়েন করুন বিডিএসই ফেসবুক গ্রুপে -যেখানে আমরা আলোচনা করি ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন বিজনেস ও ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার নিয়ে।

  • নিশ সাইট তৈরিঃ আগের মতো করে আদৌ সফল হওয়া যাবে?

    আজ সকালে একটা মিটিংয়ে কথা হচ্ছিলো একজন মার্কেটারের সাথে। তিনি বলছেন তিনি একটু হতাশ কারন বেশ কয়েক বছর চেস্টা করছে একটা প্রফিটেবল সাইট তৈরি করতে কিন্তু কখনই সফল হউন নাই। উনি মনে করছেন উনি যা করছেন তা ঠিক না।

    উনার আরো কিছু শিখতে হবে।

    ঢাকায় মিটআপে আমি এই কথাটাই বলেছিলাম যে আপনারা যারা এখনো ২০১২ সালের নিশ পারসুইটের স্ট্রাটেজি ফলো করে নিশ সাইট তৈরি করার চেস্টা করছেন তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

    ২০১২ সালের গুগল এলগরিদম আর ২০১৯ সালের এলগরিদম একই না। আবার কম্পিটিশনও অনেক চেঞ্জ। তখন মাত্র কয়েকটা বড় রিভিও সাইট ছিলো যেমন টপটেনরিভিও, কনজিউমাররিপোর্টস ইত্যাদি।

    এখন এই মানের বহু সাইট রয়েছে।

    দ্যা সুইটহোম (ওয়ারকাটার) আলাদা একটা মডেলের রিভিও সাইট। তাদের সাফল্য দেখে অনেকেই একই মডেলে সাইট তৈরি করেছে।

    বড় বড় সাইট গুলোও এখন ছোট ছোট প্রোডাক্টকে নিয়েও রিভিও করে।

    অনেক ছোট সার্চ ভলিয়মের কিওয়ার্ড নিয়ে রিভিও লেখে।

    তাদের যে পরিমানে বাজেট থাকে তাতে এখন ৫০০/১০০০ ডলার ইনভেস্ট করে সাইট তৈরি করে সফল হওয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।

    এছাড়া গুগলের এলগরিদম এখন ভিন্ন। আগে লং টেইল কিওয়ার্ডকে টার্গেট করে র‍্যাঙ্ক করা গেলেও এখন ঠিক সেই ভাবে র‍্যাঙ্ক করা কঠিন।

    গুগলের EAT ফ্যাক্টর একটা সিগনাল দিচ্ছে যে কে কনটেণ্ট লিখছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

    আরো মজার বিষয় হচ্ছে গ্রামাটিক্যাল এররো একটা নেগেটিভ র‍্যাঙ্ক ফ্যাক্টর। খুব হাই বাউন্স রেট একটা নেগেটিভ ফ্যাক্টর। ৫০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল ৫ ডলার কিংবা ১০ ডলার দিয়ে লিখে নিশ সাইট করার সুযোগ এখন নাই বললেই চলে।

    কোয়ালিটি কনটেণ্ট এখন থাকতেই হবে।

    লং ফরম কনটেণ্টই এখন স্টান্ডার্ড। গুগল লাইক করে। এছাড়া নানা রকম লং টেইল কিওয়ার্ড দিয়ে র‍্যাঙ্ক করার সুযোগ থাকে।

    আমার মতে এখন কেউ ১০০০০ ডলারের নিচে খরচ করার টার্গেট করলে ১০০ জনের মধ্যে ১ জন হয়তো সফল হবে। বাট সেটাও ফিউচারে রিস্ক থাকবে।

    রিসেন্ট ট্রেন্ড হলো টপ টেন প্রোডাক্টের রিভিও পেইজ গুলো মিনিমাম ৪০০০ ওয়ার্ড হয়। অনেক ক্ষেত্রে ৫০০০ ওয়ার্ড।

    ৫০০০ ওয়ার্ডের একটা কনটেণ্ট তৈরিতে খরচ কমপক্ষে ১৫০ ডলার।

    ১০০০০ ডলারের হয়তো ৬৬টা কনটেণ্ট পাবলিশ করা যাবে।

    লিঙ্ক সহ অন্য খরচ কোথা থেকে আসবে ?

    একটা কোয়ালিটি লিঙ্ক তৈরি করতে কমপক্ষ্যে ৫০ থেকে ৭০ ডলার লাগবে।

    খেয়াল করে দেখুন ১০,০০০ ডলারেও হচ্ছে না।

    লিঙ্ক তৈরির জন্য হয়তো ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার বাজেট রাখতে হচ্ছে।

    এরপর যে আয় হবে তা যদি কারো সাইড ইঙ্কাম হয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু সাইটের আয় তার মূল ইঙ্কাম হলে একটু রিস্ক থাকে। কারন সাইট তৈরি করে আয় শুরু হলেও সব আয় নিজের জন্য ব্যয় করা যাবে না। সাইটের ক্রমাগত উন্নোয়নে ব্যয় করতে হবে।

    সব কিছু বিবেচনা করলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার ডলার টার্গেট করতে হবে।

    এই টাকাও ওয়েস্ট হবে যদি নিচের বিষয় গুলোতে টপ লেভেলের দক্ষতা না থাকেঃ

    • কিওয়ার্ড রিসার্স ও টপিক সিলেশন
    • কনটেণ্ট ক্রিয়েশন
    • এসইও 
    • লিঙ্ক
    • সোশ্যাল ট্রাফিক জেনেরেশন
    • মনেটাইজেশন স্ট্রাটেজি

    সমস্যা হলো একা এতো টাকার রিস্ক নেয়া সম্ভব অনেকের ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না। তাই আমার মতে একাধিক পার্টনার নিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করে এগুতো হবে। এতে অনেক দিকে সুবিধা আছে। দেখা যায় একটা সাইট সফল করার জন্য অনেক সময় লাগে, অনেক স্কিল লাগে।

    একা সামলিয়ে উঠা সম্ভব না। একাধিক উদ্যোক্তা থাকলে একেকজন একটা অংশের দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে বিষয় গুলো সহজ হয়।

    অনেক বাজেট নিয়ে সাইট তৈরি করার পর যদি ভালো না করে তাহলে কি হবে?

    কেউ ৫০,০০০ ডলার খরচ করে সাইট তৈরি করলে সেই সাইট থেকে ২ হাজার ডলার আয় হলেই তার কোন রিক্স থাকে না। কারন ২০০০ ডলার আয় হয় এমন সাইটের বিক্রয় মূল্য ৬০০০০ ডলার হবে।

    ৫০০০০ ডলার খরচ করলে আয়ের টার্গেট করা যদি মিনিমাম ৫ হাজার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি হবে।

    রিক্স এড়ানোর জন্য অনেক স্ট্রাটেজি নেয়া যায়। তবে একটা বিষয় আমি সাজেস্ট করবো সেটা হলো স্টার্টআপ গুলো কিভাবে তৈরি হয় সেই বিষয় গুলো নিয়ে পড়াশুনা করা।