এআই এজেন্সি শুরু করার পর একটি সময় আসে, যখন একা সব সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
নতুন ক্লায়েন্ট আনা, সেলস কল নেওয়া, অ্যাড চালানো, এআই কলার সেটআপ করা, ক্লায়েন্টের আপডেট দেওয়া—সব একসাথে করতে গেলে চাপ বাড়ে।
তখনই আসে হায়ারিং আর টিম বিল্ডিংয়ের প্রশ্ন।
কিন্তু সমস্যা হলো, অনেকেই খুব তাড়াতাড়ি মানুষ নিয়োগ দেন, আবার কেউ কেউ দেরি করতে করতে কাজের চাপে আটকে যান।
এই অংশে আমরা দেখব, এআই এজেন্সিতে টিম বানানোর সঠিক সময় কখন, কেন ১০ হাজার ডলার মাসিক আয়ের আগে অযথা হায়ার করা ঠিক না, আর কোন কাজগুলো আগে নিজের হাতে শিখে নেওয়া দরকার।
পরের অংশে থাকবে কোন কোন রোল আগে নিতে হবে এবং কীভাবে ধাপে ধাপে টিম বড় করতে হয়।
এআই এজেন্সিতে হায়ারিং নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল
অনেকেই ভাবেন, প্রথম কয়েকজন ক্লায়েন্ট পেলেই এখন টিম বানাতে হবে। শোনায় ভালো। বাস্তবে বেশির ভাগ সময় এটা ভুল সিদ্ধান্ত।
কারণ, ব্যবসা একটু গতি পেলেই যদি আপনি লোক নেওয়া শুরু করেন, তাহলে কয়েকটি ঝুঁকি একসাথে তৈরি হয়।
প্রথমত, আপনার খরচ দ্রুত বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, আপনি নিজে এখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেননি কোন কাজ কীভাবে সবচেয়ে ভালো হয়।
তৃতীয়ত, ভুল লোক নিলে শুধু টাকা নয়, ক্লায়েন্টও হারাতে পারেন।
এআই এজেন্সির শুরুর দিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা তৈরি করা।
আপনি নিজে যদি সেলস, বেসিক ফালফিলমেন্ট, অ্যাড ম্যানেজমেন্ট, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন—এসবের স্বাদই না পান, তাহলে পরে কাউকে কীভাবে গাইড করবেন?
এই জায়গায় অনেক ফাউন্ডার একটা ভুল করেন।
তারা ভাবেন, “আমি এখন মালিক, তাই আমাকে সব নিজে করা মানায় না।”
কিন্তু শুরুর এজেন্সিতে বাস্তবতা উল্টো।
শুরুতে আপনাকে অনেক কিছুই নিজে করতে হয়।
কারণ তখন আপনি শুধু সার্ভিস দিচ্ছেন না, আপনি শিখছেন—কী কাজ করে, কী কাজ করে না, কোথায় সময় নষ্ট হয়, আর কোথায় সিস্টেম বানানো দরকার।
প্রতি মাসে 10K রেভিনিউয়ের আগে কেন ধৈর্য ধরতে হবে
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি হলো: 10K মাসিক রেভিনিউয়ের আগে অযথা হায়ার করবেন না।
এর মানে এই না যে 10K হলেই জাদুর মতো সব বদলে যাবে।
বরং এটা একটা বাস্তব নির্দেশনা।
যদি আপনার এআই এজেন্সি এখনো ছোট পর্যায়ে থাকে, তাহলে নতুন লোক নেওয়ার আগে আপনাকে দেখতে হবে:
- আপনার আয় কি নিয়মিত?
- ক্লায়েন্ট কি ধারাবাহিকভাবে আসছে?
- ফুলফিলমেন্ট প্রসেস কি কিছুটা হলেও স্থির?
- আপনি কি অন্তত কয়েকটি সফল কেস থেকে বুঝে ফেলেছেন কীভাবে কাজ করতে হয়?
যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে বুঝবেন হায়ারিং-এর ক্ষেত্রে আপনি তাড়াহুড়ো করছেন।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ভাবতে হবে।
ব্যবসায়ে এমন কিছু পর্যায় থাকে, যেখানে সমস্যা টাকা বা লোক না—সমস্যা হলো দক্ষতা আর সিস্টেমের অভাব।
আপনি যদি সিস্টেম ছাড়া মানুষ যোগ করেন, তাহলে শুধু বিশৃঙ্খলাই বাড়বে।
আগে কাজ শিখুন, তারপর লোক নিন
এআই এজেন্সিতে অনেক রোল আছে—মিডিয়া বায়ার, ডেভেলপার, ক্লায়েন্ট সাকসেস ম্যানেজার, ক্লোজার, ফোন সেটার, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট।
কিন্তু সব রোলের আগে একটি জিনিস লাগে: ফাউন্ডারের নিজস্ব বোঝাপড়া।
ধরুন, আপনি কখনো নিজে ফেসবুক অ্যাড চালাননি।
এখন আপনি একজন মিডিয়া বায়ার নিয়োগ দিলেন।
তিনি কী করছেন, ভালো করছেন কি না, কোথায় ভুল হচ্ছে—আপনি বুঝবেন কীভাবে?
আবার ধরুন, আপনি কখনো নিজে বেসিক এআই কলার সেটআপ করেননি।
এখন একজন ডেভেলপারকে কাজ দিলেন।
তিনি যা বানিয়ে দিলেন, সেটি সত্যিই ভালো কি না, নাকি শুধু দেখলে ভালো লাগে—এটা যাচাই করার ক্ষমতা আপনার থাকবে না।
এই কারণেই শুরুতে শেখার লক্ষ্য হওয়া উচিত:
- সেলস কল কীভাবে নিতে হয়
- ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিং কীভাবে হয়
- বেসিক অ্যাড সেটআপ কীভাবে করা হয়
- এআই কলার বা অটোমেশন কীভাবে কাজ করে
- ক্লায়েন্ট রিপোর্টিং ও কমিউনিকেশন কীভাবে সামলাতে হয়
এসব শিখে নেওয়া মানে সারাজীবন নিজে করতে হবে—তা না। এর মানে হলো, আপনি পরে যাকে নিয়োগ দেবেন, তাকে পরিষ্কারভাবে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারবেন।
এআই এজেন্সিতে প্রথমে কোন দিকটা রক্ষা করতে হবে
হায়ারিংয়ের ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের একটি শক্তিশালী যুক্তি হলো: সেলসের আগে ফুলফিলমেন্ট টিম গড়া নিরাপদ।
কারণ, আপনি যদি সেলস খুব তাড়াতাড়ি অন্যের হাতে দেন, তাহলে নতুন ক্লায়েন্ট আসার প্রবাহই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একজন খারাপ সেলস হায়ার আপনার পুরো ক্যাশফ্লো নষ্ট করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ফুলফিলমেন্টে কাউকে এনে যদি কিছু চাপ কমানো যায়, তাহলে আপনি নিজে সেলসের দিকে মন দিতে পারবেন। এই যুক্তি ছোট এজেন্সির জন্য খুবই বাস্তব।
অর্থাৎ, আপনার হাতে যদি কয়েকজন ক্লায়েন্ট থাকে এবং কাজের চাপ বেড়ে যায়, তাহলে “কে আমার হয়ে ক্লায়েন্ট ডেলিভারি সামলাবে?”—এই প্রশ্ন আগে আসা উচিত।
“কে আমার হয়ে সেলস করবে?”—এই প্রশ্ন নয়।
মিডিয়া বায়ার ও ডেভেলপার: কেন এই দুই রোল আগে আসে
এআই এজেন্সির সার্ভিস যদি মূলত দুই দিক নিয়ে হয়—অ্যাড + এআই অটোমেশন—তাহলে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দুই ধরনের সহায়তা সাধারণত এখান থেকেই আসে।
প্রথমটি হলো মিডিয়া বায়ার। এই ব্যক্তি ক্লায়েন্টের অ্যাড অ্যাকাউন্টে কাজ করবে, ক্রিয়েটিভ টেস্ট করবে, ক্যাম্পেইন মনিটর করবে, আর ফলাফল ট্র্যাক করবে।
দ্বিতীয়টি হলো ডেভেলপার বা টেকনিক্যাল ইমপ্লিমেন্টার। তিনি এআই কলার, অটোমেশন, ইন্টিগ্রেশন বা টেক সেটআপ নিয়ে কাজ করবেন।
শুরুতে এদের ফুল-টাইম নিতেই হবে, এমন না। অনেক সময় প্রজেক্ট-ভিত্তিক বা পার্ট-টাইমভাবেও শুরু করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যেন জানেন কোন কাজটি আপনি ছাড়তে চাইছেন, কেন ছাড়ছেন, আর সেই কাজের সফল ফল কেমন দেখতে হয়।
এখানেই আবার SOP বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের কথা আসে। আপনি যদি আগে নিজে কিছু সফল কাজ করে ফেলেন, তাহলে তা ডকুমেন্ট করে অন্য কাউকে দেওয়া সম্ভব হয়।
SOP ছাড়া টিম বড় করা বিপজ্জনক
এআই এজেন্সি বাড়ানোর সময় SOP খুব সাধারণ শব্দ মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি টিম বিল্ডিংয়ের কেন্দ্রীয় বিষয়।
SOP মানে শুধু নির্দেশিকা না। এটি আসলে আপনার অভিজ্ঞতাকে লিখিত সিস্টেমে রূপ দেওয়া।
উদাহরণ হিসেবে:
- নতুন ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিংয়ের ধাপ
- ফেসবুক অ্যাড সেটআপের চেকলিস্ট
- এআই কলার কনফিগার করার ধাপ
- সাপ্তাহিক রিপোর্ট পাঠানোর নিয়ম
- ক্লায়েন্টের আপত্তি এলে কীভাবে উত্তর দিতে হবে
এসব লিখে ফেলতে পারলে একজন নতুন টিম মেম্বার দ্রুত কাজ ধরতে পারে। না হলে প্রতিটি কাজ আপনাকে বারবার বুঝিয়ে দিতে হবে। এতে সময়ও যায়, ভুলও বাড়ে।
শুরুতে SOP বানাতে সাহায্য করার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন:
- Notion — SOP, টাস্ক, নলেজ বেস রাখার জন্য
- Google Docs — সহজ ডকুমেন্টেশন
- Loom — স্ক্রিন রেকর্ড করে কাজ বোঝানোর জন্য
- ClickUp বা Trello — টাস্ক ম্যানেজমেন্টের জন্য
এগুলো বাধ্যতামূলক না, কিন্তু টিম বড় করার আগে এগুলোর মতো টুল কাজে লাগে।
নতুনরা কীভাবে শুরু করতে পারেন
আপনার এআই এজেন্সি যদি এখনো ছোট হয়, তাহলে এখনই বড় টিম নিয়ে ভাবার দরকার নেই। বরং এই ধাপে কাজ করুন:
প্রথমে নিজের সার্ভিস ডেলিভারির মূল অংশগুলো নিজে হাতে করুন। যেমন—ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিং, বেসিক অ্যাড সেটআপ, রিপোর্টিং, আর অন্তত একটি-দুটি টেকনিক্যাল ফ্লো বোঝা।
এরপর ৩ থেকে ৫টি ক্লায়েন্টের কাজ দেখে লিখে ফেলুন কোন ধাপগুলো বারবার করতে হচ্ছে। এগুলোই আপনার প্রথম SOP হবে।
তারপর দেখুন, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি সময় খাচ্ছে কিন্তু আপনার নিজে করাটা জরুরি না। সাধারণত সেখান থেকেই প্রথম আউটসোর্সিং শুরু করা যায়।
অর্থাৎ, “আমার টিমে কাকে চাই?”—এই প্রশ্নের আগে আসা উচিত—“আমার সময় কোথায় যাচ্ছে?”
এআই এজেন্সিতে হায়ারিং মানে শুধু কাজ ভাগ করে দেওয়া না। এটি আসলে একটি নতুন স্তরে যাওয়ার প্রস্তুতি। ভুল সময়ে হায়ার করলে ব্যবসা ভারী হয়ে যায়। সঠিক সময়ে হায়ার করলে ব্যবসা হালকা হয়, গতি পায়।
এই অংশে আমরা দেখলাম কেন শুরুতে অযথা বড় টিম না নিয়ে আগে নিজের দক্ষতা, সিস্টেম আর SOP তৈরি করা জরুরি।
বিশেষ করে 10K মান্থলি রেভিনিউয়ের আগে হায়ারিংয়ে সতর্ক থাকা দরকার। কারণ এই পর্যায়ে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো শেখা, পর্যবেক্ষণ করা, আর পুনরাবৃত্ত কাজগুলো চিহ্নিত করা।
পরের অংশে আমরা দেখব এআই এজেন্সিতে ধাপে ধাপে কোন কোন রোল আগে নিতে হয়, কখন মিডিয়া বায়ার, ডেভেলপার, CSM বা সেলস টিম যুক্ত করা যৌক্তিক হয়, এবং কীভাবে lean team বানিয়ে agency scale করা যায়।

Leave a Reply